ভিভোর নতুন বাজেট ফোন Y32-এর স্পেসিফিকেশনসহ বাংলাদেশে লিস্টেড হয়েছে, যেখানে রয়েছে বিশাল ব্যাটারি এবং উন্নত ডিসপ্লে।
এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ডিভাইস যা বাজেট ক্যাটাগরিতে নতুন মাত্রা আনছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, একটি সাধারণ বাজেট ফোন হিসেবে গণ্য এই ডিভাইসে রয়েছে ৮০০০ mAh-এর বিশাল ব্যাটারি এবং IP68/IP69 রেটিং।
যেসব ফিচার সাধারণত মধ্যম ধরনের ফোনে পাওয়া যায়, সেগুলো এখন কমদামি ক্যাটাগরিতে এসেছে। এটি বোঝায় যে ভিভো বাজেট সেক্টরে তার প্রযুক্তিগত মান উন্নত করার লক্ষ্যে ধাপ এগিয়েছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করেছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং: বাজেট ক্লাসে নতুন মাত্রা
ভিভো Y32-এর মূল আকর্ষণ তার ৮০০০ mAh টাইপিক্যাল-ক্যাপাসিটি ব্যাটারি। সাধারণত এই মূল্য পরিসরে ৫০০০ থেকে ৬০০০ mAh ব্যাটারি পাওয়া যায়, কিন্তু এই ডিভাইসে সেই সীমা পেরিয়ে গেছে, যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপের নিশ্চয়তা দেয়।
ব্যাটারি সাপোর্ট করে ৪৪ ওয়াট ফ্ল্যাশচার্জ, যা দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা দেয়। এর পাশাপাশি রিভার্স চার্জিং ফিচারও রয়েছে, যা দিয়ে অন্য কোনো ডিভাইসকে চার্জ দেওয়া সম্ভব, ফলে এটি একটি পোর্টেবল পাওয়ার ব্যাংক হিসেবেও কাজ করতে পারে।
ভিভোর দাবি, এই ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, বহুবার চার্জ ও ডিসচার্জের পরেও ব্যাটারির পারফরম্যান্স হ্রাস পাবে না, যা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।

ডিসপ্লে ও পারফরম্যান্স
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৮৭ ইঞ্চি HD+ LCD ডিসপ্লে, যা বড় স্ক্রিন পছন্দকারীদের জন্য আদর্শ। এর রেজোলিউশন ৭২০x১৫৯২ পিক্সেল, যা ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে, ফলে স্ক্রলিং বা অ্যানিমেশন দেখতে এতে বেশ মসৃণ অভিজ্ঞতা দেবে।
পিক ব্রাইটনেস ১,৩০০ নিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সূর্যের তীব্র রোদেও স্ক্রিনের উপর কনটেন্ট পরিষ্কারভাবে দেখতে সাহায্য করে। প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আনিসক T7300 অক্টা-কোর চিপসেট, যা দৈনন্দিন কাজ ও গেমিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত শক্তিশালী।
মেমোরি হিসেবে ৪ জিবি বা ৬ জিবি LPDDR4X র্যাম এবং ১২৮ জিবি UFS 2.2 স্টোরেজ রয়েছে, যা মেমোরি কার্ড দিয়ে বাড়ানো যায়। এই কম্বিনেশন নিশ্চিত করে যে ফোনটি মাল্টিটাস্কিংয়ে স্মুথলি চলবে এবং পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে অ্যাপ ও মিডিয়া সংরক্ষণের জন্য।

ক্যামেরা ও ডিউরবিলিটি
পাশাপাশি, ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি রিয়ার ক্যামেরা এবং ২ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর, যা রিয়েলিস্টিক ফটোগ্রাফির জন্য উপযুক্ত। সামনের দিকে সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রয়েছে, যা পরিষ্কার ও তীক্ষ্ণ ছবি তুলতে সক্ষম।
ডিভাইসের টেকসই ভাবের জন্য ভিভো IP68 ও IP69 রেটিং যুক্ত করেছে। এটি মানে ধুলো ও পানি থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়, যা বাজেট ফোনে অত্যন্ত বিরল। সাইড মন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং স্টেরিও স্পিকারও রয়েছে, যা ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করে।
সফটওয়্যার হিসেবে এতে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ওরিজিনওএস ৬ চালু থাকবে, যা ফোনের পারফরম্যান্স এবং নিরাপত্তা উন্নত করতে সাহায্য করবে। এই সফটওয়্যার আপডেট নিশ্চিত করে যে ডিভাইসটি সর্বশেষ ফিচার ও সিকিউরিটি প্যাচ পাবে।

মূল্য ও লঞ্চের তথ্য
বর্তমানে ভিভো Y32-এর মূল্য বাংলাদেশে প্রকাশ করা হয়নি। কোম্পানি এটি ভারতে লঞ্চ করার বিষয়ও নিশ্চিত করেনি, তবে বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে লিস্ট হওয়া থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে এটি শীঘ্রই এখানে আসতে পারে।
ফোনটি দুটি রঙে আসছে: টুয়াইলাইট রেড এবং সানসেট অরেঞ্জ, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। যেহেতু এটি একটি নতুন ব্র্যান্ডিং, তাই কখনো কখনো ব্যবহারকারীরা পুরনো মডেলের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারেন।
তবে স্পেসিফিকেশন দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটি ২০২১ সালের Y32-এর সাথে সম্পর্কিত নয়। নতুন ফিচারসমূহ এবং উন্নত ডিজাইন থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের ডিভাইস, যা বাজেট সেগমেন্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
Frequently asked questions

Keep subscribing to আরিফ হোসেনHer next filing reaches you the moment it publishes, on her own subdomain.
Subscribe
