স্কুলপড়ুয়া দুই বাংলাদেশি ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত এআইভিত্তিক নিয়োগ স্টার্টআপ অ্যাজেন্টিকহায়ার কোনো শেয়ার না ছেড়েই ৩০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের এক নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে এআইভিত্তিক একটি নিয়োগ স্টার্টআপ। স্কুলপড়ুয়া দুই বাংলাদেশি ভাইয়ের হাতে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি খুব অল্প সময়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়তে শুরু করেছে, যা দেশের নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী সক্ষমতার একটি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
কারা প্রতিষ্ঠাতা
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাজেন্টিকহায়ার নামের এই এআইভিত্তিক নিয়োগ স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেছেন দুই বাংলাদেশি ভাই। তাদের একজন সাবিক বিন সুলতান, যিনি ঢাকার কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ভাই শাফি বিন সুলতান ঢাকার সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। এত অল্প বয়সে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠাতা দল
দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, অ্যাজেন্টিকহায়ারের প্রতিষ্ঠাতা দলে কেবল বাংলাদেশিরাই নন, রয়েছেন সিঙ্গাপুরের রিভার ভ্যালি হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাওইয়াং উ, যিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই তিনজন মিলেই স্টার্টআপটির মূল কাঠামো গড়ে তুলেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা দলের বাইরেও অ্যাজেন্টিকহায়ারের সঙ্গে যুক্ত আছেন কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সদস্যরা। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই একটি আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক চরিত্র ধারণ করেছে, যা এর কার্যক্রমকে একাধিক দেশের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে সমৃদ্ধ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তহবিল সংগ্রহের ধরন
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাজেন্টিকহায়ার এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অর্থ এসেছে বিভিন্ন অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা, অনুদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে, এবং এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের মালিকানা বা শেয়ার ছেড়ে দেয়নি।
একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগকারী অ্যাজেন্টিকহায়ারে মালিকানা নেননি এবং প্রতিষ্ঠানটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ রাউন্ড সম্পন্ন করেনি। শেয়ার না ছেড়ে তহবিল সংগ্রহের এই কৌশল তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি লক্ষণীয় উদাহরণ, কারণ এতে প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রতিষ্ঠাতাদের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন থাকে।
অর্থ কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে
দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, সংগৃহীত এই অর্থ মূলত পণ্য উন্নয়ন, দল পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর একটি অংশ প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্র

অ্যাজেন্টিকহায়ারের এই অর্জন এমন এক সময়ে এল যখন বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। একটি স্টার্টআপ বিশ্লেষণে লাইটক্যাসল পার্টনার্সের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে সক্রিয় স্টার্টআপের সংখ্যা এক হাজার দুইশোর বেশি এবং প্রতি বছর নতুন করে দুইশোর বেশি স্টার্টআপ যাত্রা শুরু করছে।
একই বিশ্লেষণে স্টার্টআপব্লিংকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ ৭৭তম অবস্থানে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে, যেখানে দেশটির ৬৭৭টি স্টার্টআপকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই তথ্য দেশটির উদ্যোক্তা পরিবেশের ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার একটি চিত্র তুলে ধরে।
তহবিল ও কর্মসংস্থান
স্টার্টআপ বিশ্লেষণটি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো ছয়টি চুক্তির মাধ্যমে মোট ৬০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে, যা তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশকে বেশ বাছাইধর্মী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত তহবিলের পরিমাণ ৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্টার্টআপ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে ১৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, আর সবচেয়ে শক্তিশালী খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিনটেক, ই-কমার্স, লজিস্টিকস, বিটুবি বাণিজ্য এবং সফটওয়্যার রপ্তানি। বিকাশ, পাঠাও ও শপআপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই খাতের সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সামনের পথ
সব মিলিয়ে অ্যাজেন্টিকহায়ারের গল্প বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এত অল্প বয়সে দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ এবং শেয়ার না ছেড়ে আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহের সক্ষমতা প্রমাণ করে যে সঠিক ধারণা ও পরিশ্রম থাকলে বৈশ্বিক অঙ্গনে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব, যদিও ভবিষ্যতের সাফল্য নির্ভর করবে ধারাবাহিক উদ্ভাবন ও সঠিক পরিকল্পনার ওপর।
এআই অনুসরণ করি আর এটা সাহায্য করে.
এআই নিয়ে দারুণ কভারেজ.
এআই: স্পষ্ট করে বোঝানো.

Keep subscribing to আরিফ হোসেনHer next filing reaches you the moment it publishes, on her own subdomain.
Subscribe
