ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ও লেস্টার সিটিতে বেড়ে ওঠা ফুটবলার হামজা চৌধুরী এখন বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক এবং ২০২৬ সালে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের ফুটবলে নতুন আশা জাগিয়েছেন।
বাংলাদেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হামজা চৌধুরী। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এবং সেখানকার শীর্ষ পর্যায়ে খেলা এই ফুটবলার বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছেন।
এই প্রতিবেদনে আমরা হামজা চৌধুরীর জীবন ও ক্যারিয়ার, ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলার পথে তার যাত্রা, জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক এবং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য তার আগমনের তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
হামজা চৌধুরী কে?
হামজা দেওয়ান চৌধুরীর জন্ম ১৯৯৭ সালের ১ অক্টোবর ইংল্যান্ডের লাফবরোতে। তার বাবা গ্রেনাডার নাগরিক এবং মা বাংলাদেশি, আর তার মায়ের পূর্বপুরুষের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত।
মাঠে তিনি সাধারণত রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার বা রাইট ব্যাক হিসেবে খেলেন। তার খেলার ধরন পরিশ্রমী ও লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত, যা মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে এবং দলের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইংল্যান্ডে ফুটবল ক্যারিয়ার
হামজা মাত্র সাত বছর বয়সে, ২০০৫ সালে লেস্টার সিটির একাডেমিতে যোগ দেন এবং সেখানেই ফুটবলার হিসেবে বেড়ে ওঠেন। ২০১৭ সালে তিনি লেস্টার সিটির মূল দলের হয়ে পেশাদার অভিষেক ঘটান, আর ২০২১ সালে ক্লাবটির হয়ে এফএ কাপ জেতার স্বাদও পান।
ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি বার্টন অ্যালবিয়ন, ওয়াটফোর্ড এবং শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব একুশ দলের হয়েও খেলেছেন, ২০১৮ সালের মে মাসে তুলোন টুর্নামেন্টে যার মধ্য দিয়ে তার অভিষেক ঘটে।
বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় হামজার সামনে জাতীয় দল বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। এই পথে তিনি ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট বাংলাদেশি পাসপোর্ট লাভ করেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে আপত্তি না থাকার ছাড়পত্র পান।
এরপর ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য তার আন্তর্জাতিক আনুগত্য পরিবর্তন করেন। ইংল্যান্ডের মতো একটি শীর্ষ ফুটবল দেশ থেকে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত দেশের ভক্তদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক

হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়ে তার অভিষেক ঘটান ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ, ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচে, যা গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। এই অভিষেক বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একটি স্মরণীয় ও গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এর কিছুদিন পরেই, ২০২৫ সালের ৪ জুন ভুটানের বিপক্ষে তিনি বাংলাদেশের হয়ে তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জাতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করে তৈরি করে নেন।
শেফিল্ড ইউনাইটেডে নতুন অধ্যায়
ক্লাব ফুটবলেও হামজার ক্যারিয়ারে সম্প্রতি বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট তিনি স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেন, আর এর মধ্য দিয়ে লেস্টার সিটির সঙ্গে তার প্রায় একুশ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটে।
বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য তাৎপর্য
হামজার মতো অভিজ্ঞ ও উঁচু মানের একজন খেলোয়াড়ের আগমন বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় প্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার উপস্থিতি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, বরং তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করা এবং দেশের ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত দেশের ফুটবলের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ভক্তরা আশা করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব বাংলাদেশ জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো ফলাফলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
এখানে লেস্টার সিটি নিয়ে অনেক শিখলাম.

Keep subscribing to মিতু ইসলামHer next filing reaches you the moment it publishes, on her own subdomain.
Subscribe
