বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি রেকর্ড প্রায় সাড়ে পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সতেরো শতাংশ বেশি। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি এসেছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে, আর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেকর্ড অঙ্কের প্রবাসী আয়
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রবাসী আয় হিসেবে প্রায় সাড়ে পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় সতেরো শতাংশ বেশি বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঙ্ক এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, এবং এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি কর্মীরা দেশের অর্থনীতিতে কতটা বড় অবদান রেখে চলেছেন।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রায় সাড়ে সাইত্রিশ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বাহ্যিক খাত সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে যাওয়ার সময়ে দেশের বাহ্যিক হিসাব সামাল দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা জোগাচ্ছে।
প্রবাসী আয়ের মূল উৎস
একই সূত্র অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরাই প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস, যেখানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এই আয় দেশের অর্থনীতিকে একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে রক্ষা করে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী আয়ের এই উত্থান পাঁচশ বিলিয়ন ডলারের বেশি আকারের অর্থনীতির জন্য বাহ্যিক হিসাব সামলাতে স্বস্তি এনে দিয়েছে, বিশেষত রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার এই সময়ে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও প্রবাহের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল, তাই এটি বাহ্যিক ধাক্কার বিরুদ্ধে এক ধরনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে থাকে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার
একই সূত্র অনুযায়ী, প্রবাসী আয় দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতেও সহায়তা করছে, কারণ যারা এই অর্থ পান তারা ক্রমশ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আয় সঞ্চয় ও তারল্য বাড়িয়ে দেশের আর্থিক খাতে গতি আনছে এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামনের সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ অব্যাহত থাকে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয় আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে পাঠানো আরও উৎসাহিত করা গেলে এই ধারা ভবিষ্যতেও শক্তিশালী থাকবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

Keep subscribing to ফারিয়া হোসেনHer next filing reaches you the moment it publishes, on her own subdomain.
Subscribe
