আজকের শেয়ারবাজারের শুরু, ভারতের বাজারপতন এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগের তাত্ত্বিক প্রশ্ন নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
সকাল সাড়ে ১০টা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের স্ক্রিনে ডিএসইএক্সের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৭৭ পয়েন্টে। এই সংখ্যাটি যখন চোখে পড়ে, তখন মনে হয় বাজার কোনো একটা নতুন অধ্যায়ে পা দিচ্ছে। গতকাল থেকে ৩২ পয়েন্টের এই বৃদ্ধি শুধু সংখ্যা নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের মনোবলের একটা সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর ১০টা ১০ মিনিটে আরও ৬ পয়েন্ট জুটে যায়। অর্থাৎ, বাজারের শুরু থেকেই কোনো ধরনের পতনমুখী প্রবণতা ছিল না। এমন একটি শক্তিশালী শুরু গত কিছুদিনের মধ্যে খুব কম দেখা গেছে।
বাজারের প্রশস্ত অগ্রগতি
সকালের প্রথম আধা ঘণ্টায় ডিএসইতে ৮৬ কোটি ৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লেনদেন হওয়া ৩৬৫টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ২৬১টির। অর্থাৎ, বাজারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অংশেই দর বৃদ্ধি হয়েছে।
এই বিস্তৃত বৃদ্ধি বলছে, সূচকের উত্থান শুধু কয়েকটি বড় কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং, বাজারের বড় একটি অংশেই ক্রেতার আগ্রহ জ্বলছে। এপেক্স ফুডস, ওরিয়ন ইনফিউশন, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, ইভেন্সি টেক্সটাইল, টেকনো ড্রাগস, একমি লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও বিডি ল্যাম্পস লেনদেনের শীর্ষে ছিল।
তালিকায় তিনটি বস্ত্র খাতের কোম্পানি এবং দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের উপস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি চিত্র তুলে ধরে। তবে একদিনের সকালের লেনদেন দিয়ে সামগ্রিক প্রবণতা নির্ধারণ করা কঠিন।

চট্টগ্রাম বাজারের ভারসাম্য
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধারা দেখা গেছে। লেনদেনের আধা ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টায় সিএসইর সিএএসপিআই সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করে।
এ সময় পর্যন্ত সিএসইতে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৩টির দাম বেড়েছে, ১১টির কমেছে এবং একটির অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইর তুলনায় সিএসইতে দর বৃদ্ধি ও হ্রাসের ব্যবধান অনেক কম, যা সেখানে বাজারের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

ভারতের বাজারপতনের পঞ্চমুখ
ভারতের অর্থনীতি যখন বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি হয়ে উঠছে, তখন দেশটির শেয়ারবাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, সুদের হার বৃদ্ধি, শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আবহাওয়াজনিত নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি ৭ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে।
অথচ ২০২৬ সালে বিশ্বের বড় শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে ভারতের বাজারই সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স করা বাজারগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতীয় শেয়ারবাজারে দরপতন আরও তীব্র হয়েছে। দেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স ও নিফটি সোমবার থেকে সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও এর আগে টানা আট সপ্তাহ দরপতনের মধ্যে ছিল।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের হিসাবে, এটি ২৫ বছরের মধ্যে ভারতের শেয়ারবাজারের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সাপ্তাহিক পতনের ধারা। ভারতের সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও এর বড় ধরনের চাপ অনুভব করছেন। চলতি বছর নিফটিতে বিনিয়োগকারীদের সম্পদের মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগের পুনর্বিবেচনা
দীর্ঘ মেয়াদের জন্য বিনিয়োগ করতে চাইলে SIP বা Systematic Investment Plan হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। তবে কোনও মিউচুয়াল ফান্ডে একবার বিনিয়োগ শুরু করেছেন বলে সেই ফান্ডেই বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে হবে, এমনটা কখনওই নয়।
আরও অনেকদিন একই ফান্ডে বিনিয়োগ করছেন বলে সেই বিনিয়োগ সরিয়ে ফেলতে হবে, এমনও নয়। বরং এই সময়টিকে আপনার বিনিয়োগ কেমন ফল করছে তা দেখার জন্য ও আপনার আগামীর লক্ষ্য পর্যালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
৫ বছর কোনও একটি নির্দিষ্ট ফান্ডে বিনিয়োগ থাকার পর সবার আগে দেখতে হবে গত ৫ বছর ওই ফান্ডটি তার বেঞ্চমার্ক ও তার ক্যাটেগরির অন্যান্য ফান্ডের তুলনায় কেমন পারফর্ম করছে। যদি পারফর্ম্যান্স ধারাবাহিক ভাবে ভাল থাকে, তাহলে শুধু ৫ বছর পূরণ হয়ে গিয়েছে বলেই যে ওই ফান্ড বদল করতে হবে, এমন নয়।
বিনিয়োগকারীর জন্য সঠিক সময়
সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে যে কোনও মানুষের একাধিক জিনিস বদলে যায়। ফলে যে ফান্ডটি আগে আপনি সিলেক্ট করেছিলেন, সেই ফান্ডটি এখনও আপনার বিনিয়োগের লক্ষ্য, আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং এখনও কতদিন বিনিয়োগ করতে চাইছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার আর্থিক লক্ষ্য যদি এখনও বহু বছর দূরে থাকে এবং ফান্ডের ঝুঁকির মাত্রা উপযুক্ত থাকে, তাহলে SIP চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। ফান্ডের ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজি, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং পোর্টফোলিও তৈরির পদ্ধতিতেও নজর রাখা দরকার।
মূল স্ট্র্যাটেজি অপরিবর্তিত থাকলে বিনিয়োগ ধরে রাখতেই পারেন। তবে হ্যাঁ, দীর্ঘ সময় ধরে কোনও ফান্ড যদি ধারাবাহিকভাবে বেঞ্চমার্ক ও ক্যাটাগরির অন্যান্য ফান্ডের থেকে অনেকটা পিছিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা জরুরি। তবে কয়েক মাসের দুর্বল পারফরম্যান্স দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
Frequently asked questions

Keep subscribing to ফারিয়া হোসেনHer next filing reaches you the moment it publishes, on her own subdomain.
Subscribe
