দেশজুড়ে হাসপাতালগুলো এখন ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য তৈরি, ফল হিসেবে মৃত্যুহার কমেছে, কিন্তু প্রতিদিন নতুন রোগী আসছে।
২৮১। এই সংখ্যাটিই ২০২৬ সালের ডেঙ্গু মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান। গত ৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। মনে রাখবেন, একই সময়ে ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৭০৫ জন। গত বছরও মৃত্যু সংখ্যা ছিল ৪৮২ জন। অর্থাৎ, এবারের মৃত্যুহার ০.৩১ শতাংশ, যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে ১,৯৬৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সার্বিক হিসাবে দেশে মোট ৯০,৩৫৬ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি রোগী, যেখানে ৪৮০ জন ভর্তি আছেন। চট্টগ্রামে ২৪২ জন, খুলনায় ৩০২ জন এবং বরিশালে ২০৩ জন।
হাসপাতালগুলো কি প্রস্তুত?
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মাদ নুরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটিতে ৬০টি বিছানা থেকে উন্নীত করে এখন ২০০টি বিছানা চালু আছে। এর মধ্যে ২০টি বিছানা শিশুদের জন্য এবং ৪০টি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বরাদ্দ। দুটি তলাকে স্পষ্টভাবে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে।
এই হাসপাতালে ২২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতাল প্রবর্তন করেছে 'ওয়ান-স্টপ সার্ভিস'। এর ফলে রোগীরা ওয়ার্ড ছাড়াই ডায়াগনস্টিকসহ সব সেবা নিতে পারছেন। চিকিৎসকরা নিয়মিত সকালের মিটিংয়ে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন, যা মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক হচ্ছে।

ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিমসি) ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতাল তিনটি নিবেদিত ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। ওয়ার্ড ৪০২, ৫০২ এবং ৭০২। এর মধ্যে ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডটি বিশেষভাবে নারী রোগীদের জন্য বরাদ্দ।
ডেঙ্গু ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক শাহনূর শারমিন মুনী জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডের বরাদ্দপ্রাপ্ত বিছানার সংখ্যা প্রায় ৫০টি। তবে রোগীর চাপ অনুযায়ী অতিরিক্ত বিছানা যোগ করা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা স্থির থাকে না, তাই চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে ইনট্রাভেনাস ফ্লুইড, প্যারাসিটামল, বমি রোধক ওষুধ এবং প্লাজমা সলিউশন পর্যাপ্ত মজুত আছে। এই প্লাজমা সলিউশন বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। হাসপাতালগুলোর এই প্রস্তুতিই মৃত্যুহার কমাতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

সরকারি উদ্যোগে সচেতনতা ও চিকিৎসা
সরকার দেশজুড়ে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত বিছানা, ডায়াগনস্টিক কিট, ওষুধ এবং ইনট্রাভেনাস ফ্লুইড নিশ্চিত করেছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এই সেবা পৌঁছেছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএস১ টেস্ট বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালায় এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সহজলভ্য ডেঙ্গু চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই মৃত্যুহার ০.৩১ শতাংশে নেমে এসেছে।

পরিসংখ্যানের পিছনের গল্প
২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১,৭০৫ জনের প্রাণহানি হয়েছিল, যার হার ছিল ০.৫৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৪৮২ জন মারা গেছেন, হার ছিল ০.৪৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে ৩২৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে, হার ছিল ০.৩৪ শতাংশ। এবার ২৮১ জন মারা গেছেন, হার ০.৩১ শতাংশ।
একই সময়ে গত বছরের মৃত্যুহার ছিল ০.৪২ শতাংশ। ২০২৩ সালে মোট ১,০২,৮৬১ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ১,০১,২১৪ জন। এবার ৯০,৩৫৬ জন। রোগীর সংখ্যা কম হলেও মৃত্যুহার কমেছে, যা হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতির সফলতার ইঙ্গিত দেয়।
আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি
ডেঙ্গু মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগেই রোগীর ঘনত্ব বেশি। হাসপাতালগুলো এখন পর্যন্ত প্রস্তুত, তবে চাহিদা বাড়লেও তারা প্রতিক্রিয়াশীল হতে পারছে।
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে টেস্ট এবং পর্যাপ্ত ওষুধের মজুত থাকায় রোগীদের চিকিৎসা নিতে সুবিধা হচ্ছে। তবে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতায় আরও উদ্যোগী হতে হবে। মৃত্যুহার কমাতে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতিই এখন প্রধান ভরসা।
Frequently asked questions

Keep subscribing to আয়েশা রহমানHer next filing reaches you the moment it publishes, on her own subdomain.
Subscribe
