avalw
HEALTH · BD

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই দেশের ৩৮.৬ শতাংশ মানুষের

আয়েশা রহমান আয়েশা রহমান ayesharahman.avalw.com · 3.9k reads Respect0 Save Share Read only
READS565live count PUBLISHED3 Sept2026 READING TIME2 min488 words LANGUAGEBengali
AI CITATIONS? Gathering data

জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখেননি, যা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার এখনো বহু মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন দেশের খাদ্য পরিস্থিতির যে চিত্র তুলে ধরেছে, তা নাগরিকদের একটি বড় অংশের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

প্রতিবেদনটির তথ্য বলছে, খাবারের সামর্থ্য নিয়ে দেশের মানুষ এখনো উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বজায় রাখার আর্থিক সামর্থ্য বহু পরিবারের নেই, যা দেশের সামগ্রিক পুষ্টি পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতি পাঁচজনে প্রায় দুইজন

প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হলো স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নিয়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৩৮.৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখেননি, যা সংখ্যার হিসাবে প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের সমান।

এই সংখ্যাটি দেশের সামগ্রিক পুষ্টি বাস্তবতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে প্রায় দুইজন পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার কেনার আর্থিক সামর্থ্য রাখেন না, যা একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিস্তৃত চিত্র

শুধু স্বাস্থ্যকর খাবারের সামর্থ্যই নয়, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সময়কালে দেশের জনসংখ্যার ২৬.২ শতাংশ মানুষ মাঝারি বা তীব্র মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছেন।

সংখ্যার হিসাবে এই পরিসংখ্যানটিও যথেষ্ট বড় বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হার প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ মানুষের সমান, যারা উল্লিখিত সময়কালে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খাবার নিয়মিতভাবে পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিশ্চয়তায় ভুগেছেন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ক্রমবর্ধমান খরচ

পুষ্টিকর খাবার এখনো দেশের বহু মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। প্রতীকী ছবি।
পুষ্টিকর খাবার এখনো দেশের বহু মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। প্রতীকী ছবি।

খাবারের সামর্থ্য কমে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো ক্রমাগত বেড়ে চলা ব্যয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে একজন মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার খরচ দাঁড়িয়েছে ক্রয়ক্ষমতা সমতা অনুযায়ী ৪.৫৯ ডলারে।

অতীতের সঙ্গে তুলনা করলে এই বৃদ্ধির মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এই খরচ ছিল ক্রয়ক্ষমতা সমতা অনুযায়ী দৈনিক ৩.০৯ ডলার, অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশের অবস্থান প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার অক্ষমতার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, আর এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান।

এই তুলনা গোটা অঞ্চলজুড়ে খাদ্য সামর্থ্যের বৈষম্যের একটি ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টি কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বহু মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবারের সামর্থ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদন ইঙ্গিত করে।

প্রতিবেদনটি কারা প্রকাশ করেছে

এই তথ্যগুলো এসেছে জাতিসংঘের একটি যৌথ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিবেদন থেকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের ২১ জুলাই।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুত ও প্রকাশের সঙ্গে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা যুক্ত ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল, ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

এই পরিসংখ্যানগুলো নিছক সংখ্যা নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। স্বাস্থ্যকর খাবারের সামর্থ্য কমে যাওয়ার অর্থ হলো বহু পরিবারকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নানাভাবে আপস করতে হচ্ছে, যা প্রতিবেদনটির তথ্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির একটি হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও স্বাস্থ্যকর খাবারের ক্রমবর্ধমান খরচ, অন্যদিকে সামর্থ্যের ঘাটতি মিলে দেশের সামনে একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে বলে প্রতিবেদনটির তথ্য থেকে বোঝা যায়।

2 responses

জাতিসংঘ নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টি.

4

এখানে জাতিসংঘ নিয়ে অনেক শিখলাম.

2
আয়েশা রহমান
Follow this desk
আয়েশা রহমান
Create a free account to follow আয়েশা রহমান. New stories land in your feed, and you can save any of them to your own reading lists.
Your library & lists →
আয়েশা রহমান
WRITTEN BY THE AUTHOR
আয়েশা রহমান 2026-09-03 · 2 min read · 565 reads
View profile →
VERIFY THIS STORY
ASK AI
আয়েশা রহমান Keep following আয়েশা রহমানHer next filing reaches you the moment it publishes, on her own subdomain.
Up next
More
Statistics Search Become a creator Alliances About Terms Privacy