ঈদের বিশেষ খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখবেন, জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘরের টেবিলে সাজে রসগোল্লা, ফিরনি, পায়েস, আর সাথে থাকে ফার্মের মুরগির মাংস। এই দুটো খাবার একসাথে খেলে শরীরে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে বেশি কথা হয় না। আমরা সাধারণত ঈদের খাবারকে শুধুই আনন্দের খাবার হিসেবে দেখি, কিন্তু এর পেছনে আছে জটিল পুষ্টিগুণের খেলা।
চ্যানেল ২৪ এর প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদরা বলেছেন, ঈদের মিষ্টি খেতে ভয় পেতে হবে না। তবে কীভাবে খাবেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে আরটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে ফার্মের মুরগির মাংসের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত দেওয়া হয়েছে। এই দুটি বিষয় মিলিয়ে একটা মৌলিক প্রশ্ন ওঠে, ঈদের খাবারে আমরা কীভাবে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখব?
মিষ্টির সাথে প্রোটিনের সম্পর্ক
ঈদের মিষ্টিতে সাধারণত চিনি, দুধ আর গhee থাকে। এগুলোতে উচ্চ মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি থাকে। অন্যদিকে ফার্মের মুরগির মাংসে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন। প্রোটিন শরীরের কোষ তৈরি ও মেরামতের কাজ করে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, মিষ্টি খেলে যদি একই সাথে পর্যাপ্ত প্রোটিন খাওয়া হয়, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। মিষ্টিতে থাকা চিনি দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু তা দ্রুতও শেষ হয়ে যায়। প্রোটিন সেই শক্তিকে ধরে রাখে।

ফার্মের মুরগি কি আসলেই স্বাস্থ্যকর?
অনেকে মনে করেন, ফার্মের মুরগির মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক থাকে বলে এটি ক্ষতিকর। আরটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে ভুল বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, যথাযথ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত ফার্মের মুরগি খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ।
ফার্মের মুরগিতে সাধারণত কম চর্বি থাকে, বিশেষ করে বুকের মাংসে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে গাঢ় রঙের মাংসে কিছুটা বেশি চর্বি থাকতে পারে। তাই ঈদের দিনে ফার্মের মুরগির বুকের মাংস খাওয়া বেশি উপকারী হতে পারে।

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণই মূল চাবি
পুষ্টিবিদরা চ্যানেল ২৪ এর সাথে কথা বলে বলেছেন, ঈদের মিষ্টি খেতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে একবারে অনেক বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এক কাপ মিষ্টির সাথে এক প্লেট ফার্মের মুরগির মাংস খেলে শরীরের পুষ্টিজোগান ভালোভাবে পূরণ হয়।
মিষ্টি খাওয়ার পরে হাঁটতে বেরিয়ে যাওয়া উচিত। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। একই সাথে মুরগির মাংসের প্রোটিন হজমের জন্য সময় লাগে, ফলে শরীর দীর্ঘ সময়ের জন্য সতেজ থাকে।

ঈদের খাবারে ভারসাম্যের সঠিক পদ্ধতি
ঈদের দিনে খাবারের খামার বা টেবিলে সাদা চালের পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি রাখা উচিত। শাকসবজির ফাইবার মিষ্টির চিনির শোষণ ধীর করে দেয়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে না।
ফার্মের মুরগির মাংসের সাথে তাজা সবজি দিয়ে তৈরি স্যালাড খেলে পুষ্টির মান আরও বাড়তে পারে। এতে খাবারের রুচিও বাড়ে। ঈদের খাবার কেবল মিষ্টি ও মাংসে সীমাবদ্ধ রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ পাওয়া যায় না।
স্বাস্থ্যসম্মত ঈদ উপভোগের টিপস
ঈদের দিনে পানি খাওয়া অবশ্যই নিয়মিত করতে হবে। মিষ্টি ও মাংসের খাবারে লবণ ও চিনি বেশি থাকে, যা শরীর থেকে পানি বের করে দেয়। পর্যাপ্ত পানি খেলে শরীরের ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা যায়।
খাবার খাওয়ার পরে অবশ্যই হাঁটতে হবে। অল্প অল্প করে খাওয়া এবং দুই চাশনি পরপর খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে পেটে গ্যাস বা বloating-এর সমস্যা হতে পারে। ঈদের খাবার উপভোগ করুন, কিন্তু শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে।
Frequently asked questions

Keep subscribing to আয়েশা রহমানHer next filing reaches you the moment it publishes, on her own subdomain.
Subscribe
